প্রবাসীর কোনো দেশ থাকে না! - আয়নামতি


বাইরে রাগী বালকের মত ফুঁসছে দারুণ দুপুর।

কিছু বায়না করে না পাওয়া বালকের রাগ সামাল দিতে মায়ের হাসিমুখের উপস্হিতি যেমন বালকের রাগ মুছে নেয়, সেভাবে ঠান্ডা বিকেল এসে দাঁড়ায় সময় গড়িয়ে, রোদের রাগ মুছে যায়।

এ সময়টাতে অনেকেই কাজ শেষে বাড়ি ফেরে। আমিও ফিরে আসি শেষ বিকেলের রোদ গায়ে মেখে। ঘরে ফেরার এই সময়ে আমার কেন জানি মনটা কেঁদে ওঠে। আশৈশব যে ঘরে ফিরেছি খেলা শেষে, ক্লাসশেষে, সে ঘরে আর ফেরা হয়না বলেই মনটা কাঁদে, সে আমি বিলক্ষণ জানি। এও জানি, সে ঘরে আমার কোনোদিন ফিরে যাওয়া হবে না। এখন আমি অন্য দেশের চেনা-অচেনায় মিশানো এক ঘরে থাকি। আমার মধ্যে সহজেই অন্যকে আপন ভাববার বিরল গুণটি নেই বলেই কিনা জানিনা, আমি না পারি এ ঘরকে নিজের ভাবতে, না পারি এই দেশটাকে আপন করতে। তবুও প্রতিবার ঘরে ফিরে নিজেকে শুনিয়ে বলি, 'দিস ইজ হোম।'

বহুদূরের লাল সবুজ পতাকাটি অবিকল একটা সবুজ টিয়া পাখির লাল ঠোঁট হয়ে আমাকে লক্ষ্য করেই যেন গেয়ে ওঠে, ‘এবার তোর আপন দেশে আয়।’ ঘর ছাড়া মানুষেরা ঘরে ফেরার আকুতি বয়ে বেড়ায়। তাদের এক পা যেন উঠেই থাকে আশৈশব পরিচিত গণ্ডিতে সেটি রাখবার জন্য।

“বুকে হাওয়া ঘুরে ওঠে শূন্যতা আনে। কে যেন জানতে চায় দেশ কোনখানে?”

অকারণে মনে পড়ে যায় অদ্ভূত সেই সিনেমার কথা ‘নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান!’ কিন্তু ঐ দলে তো পড়িনা আমি। আমি আসলে ঠিক কোন দলে পড়ি তবে? নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করি। অফিসের এক গোড়া বর্ণ বিদ্বেষী সহকর্মী মাঝে মাঝেই স্পষ্ট ভাবে জানান দেন, এদেশটার অধিকার কেবল তাদের, অভিবাসীদের নয়।

এহেন আচরণের মোক্ষম জবাব দেয়া যায় ইতিহাসের চোখে আঙ্গুল দিয়ে। কিন্তু প্রতিবারই ব্যাপারটা হালকা তামাশায় মোড় নেয় শেষ পর্যন্ত। আড্ডা শেষে ওর স্বদেশী বন্ধুরা স্বভাব সুলভ সুশীল ব্যবহারে ক্ষমা প্রার্থনা করে নেয় লোকটার হয়ে। সে কিছুটা মানসিক ভারসাম্য খুঁইয়ে বসা মানুষ, সেটা আর দশজনের মতো আমারও জানা। তবুও ভেতরে ভেতরে আমাদের প্রতি কারো ঘৃণা টের পাই, ভদ্রতা বশে তাকে পাশ কাটাই ঠিকই। কিন্তু বুকের ভেতর থেকে তার রেশটুকু পুরোপুরি মিটিয়ে ফেলতে পারিনা। একটা অক্ষম রাগ বুকের মধ্যে পুষেই রাখি।

কিছু মানুষের কুটিল ইচ্ছার কাটাকুটিতে যদি এই পৃথিবীর মানচিত্রের বুকে এত এত আঁচড় না পরতো, বিভেদের সীমানা টেনে, দেগে দিয়ে যদি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তুলে দেওয়া না হতো। তবে কেমন হতো সেই একক পৃথিবীর মানচিত্র? ভাবতে ইচ্ছে করে সে কথা। অচেনা সেই মানুষটির মতো অবাক র্নিলিপ্ততায় বলে দিতে পারতাম আমিও তবে, ‘জানিনা কোন দ্রাঘিমায় আমার দেশ।’ আশ্চর্য মেঘদলের পাশাপাশি তবে হয়ত ভালোবাসাবাসিটাও আশ্চর্য সুন্দরই থাকতো এক মানুষের প্রতি অন্য মানুষের। কিন্তু সেটা হবার নয়। তাই সহকর্মীর অবান্তর কিন্তু কার্যকরী খোঁচা বুকের গভীরে অপমান হয়েই জেগে থাকে। অক্ষম রাগে ফুঁসতে থাকে……….

” রোজ আমি চেটে খাই লজ্জা ও ঘৃণা, কে জানে আমার কোন দেশ আছে কিনা!”

আছে বৈকি, আমারও একটা দেশ আছে। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। তবে সে স্বাধীনতা কেবল কাগজে কলমে। আসলে সেও আমারই মতো অসহায়। রোজ রোজ সেই স্বাধীন দেশটাকে আমারই মতো লজ্জা আর ঘৃণা চেটে নিতে হয় নানান ছুতোয়। নিজের সন্তানসম এক দঙ্গল বুভুক্ষু নিয়ম করে তাকে অপমানে অপমানে বিদ্ধ করে। লাল সবুজ পতাকার আবির্ভাবের মহান রক্তক্ষয়ী ইতিহাসকে বিকৃত করে।

দেশের কী অনুভূতি আছে? সে কী বুকের ভেতর আমারই মতো করে কষ্টগুলো পুষে রাখে? নাকি অসহায় মাটির তৈরি দেবতার মতো কেবলই দেখে যেতে শিখেছে? কেঁদে যেতে শিখেছে? দেশ নাকি মায়ের মতো? তবে? তবে সন্তান হয়ে আমরা কিভাবে পারি তাকে অপমানে বিদ্ধ করতে! আমরা কেবলি অবয়ব পেয়েছি হয়ত, মানুষ হতে পারিনি। নইলে কী উপায়ে সম্ভব হয় সন্তান দ্বারা মায়ের অপমান?

প্রশ্ন আসতেই পারে, এত যে বড় বড় কথার তুবড়ি ছোটাচ্ছো, তুমি কোন কাজে লাগছো দেশের? এবেলায় মুখে কুলুপ! এবেলা ভীষণ রকম চুপ। আমি ভীষণ রকম স্বার্থপর ভাবে কেবল নিজেই সুখী থাকতে ভালোবাসি। আমার কী আসে যায় দেশের কথা ভেবে! দেশের নানা সংকট-সংগ্রামে আমি তো বুক চিতিয়ে রাজপথে গিয়ে দাঁড়াই না। যাঁরা বুক দিয়ে দেশের সংকট সংগ্রামে দাঁড়িয়েছেন, দাঁড়ান, সাড়ে তিন হাত মাটির অধিকার টুকু চেয়ে নিয়ে দেশটা তাঁদের নামেই দিয়ে দিলাম। দেশ নিয়ে আমার ভাববার অধিকার নাই। ভাবতেও চাই না। কাঙ্গাল মন যেন কোনো ভাবেই মুখ ফসকে বলে না ওঠে, ‘রেখো মা দাসেরে মনে’ সেদিকে কড়া পাহাড়া বসিয়ে দিলাম। নাহ্ আর ভাববো না দেশ নিয়ে…. দেশ আমাকে খাওয়ায় না পরায়! দেশ আমার কথা ভাবে নিশিদিন? আমি তো তার কাছে কেউ নই আর। কেবল মুখ ফুটে ঐ সহকর্মীর মতো বলেনা কেউ, এদেশ তোমার নয়। কারণ দেশে গেলে আমি ঠিক তেমন অভ্যর্থনাই পাই, যেমন পেয়ে থাকে একজন ভীনদেশী আগন্তুক। আমার উপস্হিতির উদ্দেশ্যে বহুদিন পর দেখা হওয়া প্রায় সবার মুখের প্রথম বুলিই থাকে, ‘কবে এলে? ফিরছো কবে?’ স্বদেশীদের কাছে এখন আমি যেন কেবলই শীতের পাখি। মেয়াদ ফুরোলেই ফেরার পালা তাই। বুকের ভেতরের অসহায় মানুষটা মনে মনে বিড়বিড় করে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণের ব্যর্থ প্রয়াস চালায় তবুও…..

“আসমানের তারা সাক্ষী

সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই

নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী

সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী

পূবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের পালে স্থিরদৃষ্টি

মাছরাঙা আমাকে চেনে

আমি কোনো অভ্যাগত নই

খোদার কসম আমি ভিনদেশী পথিক নই

আমি কোনো আগন্তুক নই

আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি

ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে

এখানেই থাকি আর

এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা -

সারা দেশে।”

বাচ্চা ছেলের অভিমান নিয়েই তাই দূরে আছি, সুখেই আছি। আমার কোন দেশ নাই, এই বোধকে দানা পানি দেই যত্ন করে।

তবুও তাতানো দুপুর গড়িয়ে একটা শান্ত বিকেলকে বুকে নিয়ে যখন গোধূলি বিষন্ন রাজকীয়তায় শিশিরের শব্দে নেমে আসতে থাকে,

বুকের ভেতর কাঙ্গালপনা কেন এভাবে ছলকে ওঠে! কেন ছন্নছাড়ার মতো তার জানতে ইচ্ছে করে-

“কতদিন বুকে মাখনি স্বদেশ?

বহুদিন হলো মরে বেঁচে থাকা

এই শূন্যতা হলোনা তো শেষ!"

----------------------------------------------------------------------------------
লেখাটা প্রিয় Gita Das দিদিকে উৎসর্গ করলেম।

ভি এস নাইপল: গুণী, নানান পরস্পরবিরোধিতায় ভরা এক লেখক - আশফাক স্বপন (অনুবাদ)

অনুবাদ আশফাক স্বপন
আরো কিছু লেখার লিঙ্ক



ভি এস নাইপল: গুণী, নানান পরস্পরবিরোধিতায় ভরা এক লেখক
বোধের ঋজুতা, রসবোধ, অনুপুঙ্খ চিহ্নিত করার সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি লেখক হিসেবে এত গুণ ছিল ভি এস নাইপলের, তিনি যেন যা খুশি তাই করতে পারতেন পরে বোঝা গেল যে নিজেকে ছাড়া আর কাউকে খুশি করার ব্যাপারে তাঁর খুব একটা মাথাব্যথা ছিলনা সারা পৃথিবীজুড়ে পাঠকরা যে তার নানা উপন্যাস ও বিবরণধর্মী বই পড়তে হুমড়ি খেয়ে পড়ত, তার কারণ, সমালোচক Clive James (ক্লাইভ জেমস)-এর  ভাষায় তাঁর সুচারু, সুতীক্ষ্ণ শ্লেষ, তার হৃদয়ের উদার ঊষ্ণতা নয় গুণে ক্ষণজন্মা এই লেখকের কারবার ছিল কঠোর, বাস্তব সত্য নিয়ে, তাই নাইপল যেমন মুগ্ধ করতেন, তেমনি তীব্র বিরাগ উৎপাদন করতেন

একগুচ্ছ বৈপরীত্য নিয়ে তৈরি ছিল মানুষটা সেদিক থেকে বিংশ শতাব্দীর নিয়ত পরিবর্তনশীল, অভিবাসনের জমানার মেজাজটাকেই ধারণ করেছিলেন যেন তাই এই শতাব্দীর প্রতিভূ লেখক হয়ে উঠেছিলেন তার জীবনটা পুরোনো পৃথিবী থেকে নতুন পৃথিবীতে আসা যাওয়ার কাহিনি দুই মহাদেশের ভাবনার জগতের মাঝে দৌত্য করেছেন ভঙ্গিটি শীতল, কখনো খিটখিটে মেজাজে জন্ম তার ক্যারিবিয়ান দ্বীপ ত্রিনিদাদে পড়াশোনা বিলেতের অক্সফোর্ডে স্থায়ী বসবাস লণ্ডনে সেখানে কেতাদুরস্ত স্যুট পড়ার অভ্যেস হয়, সেই সাথে সমাজের ঊঁচুতলায় আনাগোনা আমি যখন নিজেকে দেশচ্যুত বা উদ্বাস্তু বলি, সেটা উপমা নয় কথাটা আক্ষরিক অর্থেই বলি,’ নাইপল বলেছিলেন

ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প - শহীদুল জহির বই আলোচনা: নায়লা নাজনীন (প

ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প
- শহীদুল জহির
বই আলোচনা: নায়লা নাজনীন (পরিচালক ‘বইয়ের হাট’)

জাদুবাস্তবতাকে অনেকে গোলমেলে মনে করেন। জাদুবাস্তবতাবাদে উনি ওস্তাদ যিনি বাস্তবকে করে তোলেন অবাস্তব। আরও ভালোভাবে বললে বলতে হয়, অবাস্তব কে করে তোলেন প্রচন্ড রকমের বাস্তব।
বাংলা সাহিত্যজগতের ব্যতিক্রমী স্রষ্টা শহীদুল জহির অকালপ্রয়াত। বিগত শতাব্দী সত্তরের দশকে সৃজনশীল সাহিত্য অঙ্গনে তার আগমন ঘটেছিল। সে সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশােনা করছিলেন। তাঁর সাহিত্য-সৃষ্টি আমৃত্যু (২০০৮) বহমান ছিল। তাঁর সৃষ্টির পরিমাণগত দিক খুব বেশি না হলেও গুণগত দিক অসাধারণ । অসাধারণত্বের বিষয়টি নানা দিক থেকে মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণের দাবি রাখে। ঘটনার বহুরৈখিক বর্ণনা, বুননশৈলী, শেকড়স্পর্শী অনুসন্ধান, প্রতিটি বিষয় সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে উপলব্ধিপূর্বক তা সুসংগঠিত করা, পূর্ণাঙ্গতা- এ সবই তাঁর সৃষ্টিকে বিশিষ্ট করে তুলেছে।

ঔপন্যাসিক ও গল্পকার শহীদুল জহির (১৯৫৩ - ২০০৮) বাংলা সাহিত্য জগতের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ধারার স্রষ্টা। তথাকথিত জনপ্রিয় লেখক তিনি ছিলেন না। অত্যন্ত যত্নশীল ভাবে লেখালেখিতে জনচিত্ত জয় করার মত হৃদয়গ্রাহী উপস্থাপন ভঙ্গী পরিহার করে তিনি উজ্জ্বল ছিলেন স্বমহিমায়। নিরাসক্ত সংলাপ, ঘটনার বহুরৈখিক বর্ণনা, শেকড়স্পর্শী অনুসন্ধান, সুক্ষ্ম বুননশৈলি, দারুণ বৈচিত্রময় ভাষার ব্যবহার যা একই সাথে জটিল এবং আকর্ষক, তাঁর সৃষ্টিকে দিয়েছে এক আলাদা উচ্চতা। তাঁর রচনার শ্লেষাত্মক কৌতুকাবহ বা অধিবাস্তব /পরাবাস্তব অনুভব পাঠককে হাজির করে এক গোলকধাঁধায়। গল্পের সমাপ্তির পরেও পাঠক আবর্তিত হতে থাকে সেই অদৃশ্য ধাঁধাঁয়।

'ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যন্য গল্প' বইটিতে মোট ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটের সাতটি গল্প রয়েছে। গল্পগুলোর বুননে রয়েছে প্রেম বা প্রেমের সন্ধান, আছে জীবনের আখ্যান নয়ত মরণের খেরোখাতা, আনন্দ, পীড়ন ও পতনের বিস্বাদ, বা হয়ত আছে কিছুই না থাকার মাধুরী, আছে আমাদের পার্থিব জীবনের বাস্তবতা। লেখকের অসাধারণ এবং  তুলনারহিত প্রকাশভঙ্গি গল্পগুলোকে দিয়েছে অভিনবত্ব, একটি বিশেষ মাত্রা।

'ডলু নদীর হাওয়া' গল্পে মগবালিকা সমর্তবানু ওরফে এলাচিং এর রুপে মুগ্ধ, প্রেমে পাগল  তৈমুর আলী একটি উদ্ভট শর্ত মেনে তাকে বিয়ে করে। সমর্তবানুর শর্ত থাকে যে, সে বিয়ের পর তৈমুর কে বিষ (জহর) প্রয়োগে মারবে। এবং এটা যে শুধু কথার কথা নয় তা সে বিয়ের রাতেই প্রমাণ করে। দুটো বিড়াল কে পায়েস খেতে দিলে তার মধ্যে একটি বিড়াল মারা যায়। (অর্থাৎ যে বাটিতে বিষ মেশানো ছিলো)। প্রথমে ততটা গুরুত্ব না দিলেও পরে জেদের বশেই হোক বা ঠান্ডা মাথায়ই হোক তৈমুর এই 'খেলাটি' মেনে নেয়।
সমর্তবানু প্রতিদিন তাকে নাস্তার পাতে দুটো পানির গ্লাস এগিয়ে দেয়, যার একটিতে থাকে বিষ মেশানো পানি এবং অন্যটিতে বিশুদ্ধ পানি। চল্লিশ বছর ধরে এই ভয়ংকর খেলাটি চলতে থাকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এবং তৈমুর আলী প্রতিদিনই নির্ভুলভাবে বিশুদ্ধ পানির গ্লাসটিই তুলে নেয়।

বইয়ের হাট - এমরান হোসেন রাসেল



অনলাইন যোগাযোগের যুগান্তকারী পরিবর্তনে বইয়ের প্রসার বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে  এই পাঠযজ্ঞে বাংলা বই যেন ব্রাত্যএকদল বাংলা বইপ্রেমী অনলাইন বাংলা বই পঠন-পাঠনে বিপ্লব সাধন করেছে ২০১২ সালে ‘বইয়ের হাট’-এর যাত্রা শুরু আজ সারা বিশ্বে ১২০,০০০ বইপ্রেমী এর সদস্য ৬০,০০০-এর বেশি বই অনলাইনে সেই চমকপ্রদ গল্প শুনুন অন্যতম পরিচালক এমরান হোসেন রাসেল-এর কাছে



বইয়ের হাট

এমরান হোসেন রাসেল

আমরা বলি ‘বই পড়লেই মানুষ মননশীল হয়’ বলা উচিৎ ‘মননশীল বই পড়লে মানুষ মননশীল হতে পারে’বইয়ের হাট হলো এমনই মননশীল বইয়ের আধার। শুধুমাত্র বাংলায় মননশীল বইয়ের আধার।
আজ মানুষ কংক্রিটময় পৃথিবীতে যান্ত্রিকতা, হিংসা, ঈর্ষায়, স্বার্থপরতায় কাতর, জীবন-দর্শন এখন স্বার্থ আর ধর্ষণে, সাম্রাজ্যবাদ রাষ্ট্রীয় আঙ্গিনা পেরিয়ে গ্রাম্য কুটিরে, ধর্মগুলো আত্মোন্নয়নের খোলস ছেড়ে অপরাধের বর্ম তখন মানুষকে সুস্থভাবে বাঁচতে হলে মননশীল হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

যখন রাষ্ট্রনায়কের হীন স্বার্থে ফরমায়েশি অছিয়তনামা হয় ইতিহাস, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনকে বলা হয় উন্নয়ন, কোমলমতি শিশু-কিশোরদের কলহাস্য-কৈশোর ধর্মীয় উন্মাদনায় বা টিকে থাকার অসম প্রতিযোগিতায় ধ্বংস হয়, প্রকৃতির উদার উপহার সবুজ বনানি কেটে তৈরী হয় পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ঘরের বাইরে বের হলে ঘরে-ফেরা অনিশ্চিত তখন মানুষকে মানবিক হতে হলে মননশীল হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

সাহিত্য মানুষকে ভেতর থেকে গড়ে তোলে, এটাই সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য; মানব মনের ভেতরে প্রণোদনার সৃষ্টি করে। ‘সবকিছুর পরেও যে জীবন অমূল্য জিনিস’ এই বোধ জন্মাতে, জন্মানো বোধে শান দিতেই সাহিত্য।
জগতের ছড়িয়ে থাকা ইন্টারনেট-সেবী বাঙালি আর ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা বাংলা বইয়ের মেলবন্ধন বইয়ের হাটসাহিত্য নিয়েই বইয়ের হাট-এর যাবতীয় কর্মকাণ্ড; নির্দিষ্ট করে বললে ভিন্ন-ভাষার সাহিত্য বাংলায় অনূদিত এবং বাংলা-সাহিত্যের আধারই বইয়ের হাটসাহিত্য বুঝতে হলে বিজ্ঞান, অংক, দর্শন, সংগীত, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, পুরাণ, মিথের উপযোগিতা অপরিহার্য, বইয়ের হাট-এ এসব বিষয়ভিত্তিক বইয়ের চর্চা হলেও সাহিত্যই প্রধান। মূলত বই দেওয়া-নেওয়া দিয়ে শুরু হলেও, বইয়ের হাট এখন সাহিত্য-নির্ভর আরও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত।

কথা সাহিত্য নিয়ে আড্ডায় স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এবং প্রচেত গুপ্ত


কথা সাহিত্য নিয়ে আড্ডায় স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এবং প্রচেত গুপ্ত

একজনের পছন্দ ছোটগল্প, অন্যজন ভালবাসেন। উপন্যাসের বৃহৎ পরিসর। তবু নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে পাঠকমন স্পর্শ করতে পেরেছেন প্রচেত গুপ্ত এবং স্মরণজিৎ চক্রবর্তী, এই দুই গদ্যকারই। তাঁদের আড্ডায় সূত্র ধরিয়ে দিলেন সুবর্ণ বসু।

দেশ পত্রিকার আয়োজনে মুখোমুখি হলেন এইসময়ের দুই জনপ্রিয় গদ্যলেখক। জনপ্রিয়তার ভাল-মন্দ, লেখালিখির অভিযাত্রা, লেখায় অগ্রজ লেখকদের প্রভাব থেকে শুরু করে বহু বিষয় উঠে এল তাঁদের কথোপকথনে। সমসাময়িক লেখালিখি নিয়ে কোথাও হয়তো একটু সাবধানী, আবার সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের প্রতি ঈষৎ বিরক্তি... মনের কথা লুকোলেন না কেউই। আবার লেখায় রসবোধ বা পাঠকের প্রতি বিশ্বাসের দিক থেকেও পরস্পরের সঙ্গে সাদৃশ্য খুঁজে পেলেন এঁরা...
সুবর্ণ বসু: বই বিক্রি হওয়াকে যদি জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ মাপকাঠি ধরি, তা হলে আপনারা এই মুহুর্তের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকদের অন্যতম। আপনাদের দুজনকেই জিজ্ঞেস করব, জনপ্রিয় লেখকরা কি লেখার সময় পাঠকের প্রতিক্রিয়া মাথায় রেখে লেখেন? নিজস্ব গল্প বলার পাশাপাশি পাঠকের আগ্রহ জিইয়ে রাখার যোগবিয়োগও কি চলতে থাকে?
প্রকাশক : রিটন খান, সম্পাদকমন্ডলী : এমরান হোসেন রাসেল, রিটন খান
Copyright © 2018. All rights reserved by বইয়ের হাট