Showing posts with label হেমন্ত মুখোপাধ্যায়. Show all posts
Showing posts with label হেমন্ত মুখোপাধ্যায়. Show all posts

একটি দিন - হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (ছোটগল্প)

ছোটগল্প
একটি দিন

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়

মেয়েটার জ্বর আর ছাড়ে না৷ কী যে ঘুসঘুসে জ্বর হয়েছে তা বোঝাও যায় না৷ রামরতনবাবু অস্থির হয়ে ওঠেন৷ রমা মেয়েটি আবার অবুঝ৷ রোজ সকালে উঠেই রামরতনবাবুকে বলে, 'বাবা আজ কী খাব?'

উত্তর বাবাকে আর দিতে হয় না— মা ঝঙ্কার দিয়ে ওঠেন, 'খাবি আবার কী? মেয়ের জ্বর তা যেন বোঝেন না৷ হাড়মাস আমার জ্বালিয়ে খেলে৷'

রামরতনবাবু মৃদুস্বরে বলেন, 'আহা ছেলেমানুষ ওকে অমন করে বকছ কেন? ওরে রমা এবার তোর জ্বর ছেড়ে যাবে রে৷ তার পর তোকে ভাত দেব৷ এই দেখ না আর কটা দিন৷'

বাবার আশ্বাসবাণী শুনে রমার মুখে হাসি দেখা দেয়— বিছানার ওপরে উঠে বসে বলে, 'হ্যাঁ বাবা তাড়াতাড়ি আমার জ্বর সেরে দাও না, তার পর—'

রমা তার কথা শেষ করতে পারে না৷ কথার মাঝেই মা বলেন, 'হ্যাঁ গো, আজকে একটা ডাক্তার ডাকবে তো? আর তো পারা যায় না মেয়েটাকে নিয়ে৷ রোগে ভুগে ভুগে দেখ না মা আমার আধখানা হয়ে গেছে৷'

আইডিয়ার কামড়া - হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (ছোটগল্প)

আইডিয়ার কামড়া
হেমন্ত মুখোপাধ্যায়


১৪ বছর বয়স থেকে গল্প লেখা শুরু করেছিলাম৷ তখন আমি ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশনের ছাত্র৷ ওই বয়সেই আমরা কয়েকজন সহপাঠী মিলে একটা সাহিত্যিক গোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলাম৷ সন্তোষকুমার ঘোষ, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, রমাকৃষ্ণ মৈত্র, জগৎ দাস এবং আমি— এই ক'জন ক্লাসফ্রেন্ড এক সঙ্গে লেখালেখি করতাম৷ সন্তোষ আর সুভাষ উত্তরকালে বাংলা সাহিত্যে বড় মাপের প্রতিষ্ঠা পেয়েছে৷ রমাকৃষ্ণ ও জগতের লেখার হাতও ছিল চমৎকার৷ কিন্তু, আমারই মতো ওরা লেখার অভ্যাসটা দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারেনি৷ পারলে ওরা সাহিত্য জগতে নিশ্চয়ই প্রতিষ্ঠা পেত বলে আমার বিশ্বাস৷ যাই হোক, যেটা ঘটেনি তা নিয়ে আক্ষেপ করা নিরর্থক৷ পুরনো দিনের দিকে একটু ফিরে তাকালে রোমন্থনজনিত বিষণ্ণতা সম্পূর্ণ কাটিয়ে ওঠা মুশকিল৷ মনে পড়ছে, স্কুলে পড়ার সময় গড়ে তুলেছিলাম কল্যাণ সঙ্ঘ সাহিত্যসভা৷ শাঁখারিপাড়ায় আমার মামাবাড়িতে এই সাহিত্যসভার অধিবেশন হত৷ প্রতি মাসে৷ আমার মামাতো দাদা অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সাহিত্যসভার মূল পান্ডা৷ তা ছাড়া তিনি ছিলেন বিপ্লবী রাজনীতির একজন একনিষ্ঠ কর্মী৷ ওঁর আন্ডারগ্রাউন্ড পলিটিক্সের খবর আমি অবশ্য জানতে পেরেছিলাম অনেক পরে৷ যাই হোক, কল্যাণ সঙ্ঘ সাহিত্যসভার আমন্ত্রণে নরেন্দ্র দেব, প্রেমেন্দ্র মিত্র এবং বুদ্ধদেব বসুর মতো দিকপাল সাহিত্যসেবীও শাঁখারিপাড়ায় আমার মামাবাড়িতে আসতেন৷ ওঁদের ধরে আনার ব্যাপারে আমার মামাতো দাদার কৃতিত্বই ছিল সব থেকে বেশি৷ আমাদের সাহিত্য জীবনের গার্জেন ছিলেন মাস্টারমশাই সুধাংশু সেনগুপ্ত, নন্দগোপাল সেনগুপ্তের ছোটভাই৷ আমরা একটা লাইব্রেরিও চালাতাম৷ লাইব্রেরিতে বইয়ের সংগ্রহ খুব বিরাট কিছু ছিল না৷ কিন্তু, আমাদের মতো খুদে সাহিত্যিসাধকের কাছে এই লাইব্রেরি ছিল মন্দিরের মতো৷ পাঠ্যপুস্তকের জগতের বাইরে যে আরও একটা জগৎ আছে তা কিন্তু আমরা কল্যাণ সঙ্ঘ সাহিত্যসভার আশীর্বাদেই টের পেয়েছিলাম৷

প্রকাশক : রিটন খান, সম্পাদকমন্ডলী : এমরান হোসেন রাসেল, রিটন খান
Copyright © 2020. All rights reserved by বইয়ের হাট