অনুবাদ আশফাক স্বপন
আরো কিছু লেখার লিঙ্ক
ভি এস নাইপল: গুণী, নানান পরস্পরবিরোধিতায়
ভরা এক লেখক
বোধের ঋজুতা, রসবোধ, অনুপুঙ্খ চিহ্নিত করার
সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি – লেখক হিসেবে এত গুণ ছিল ভি
এস নাইপলের, তিনি যেন যা খুশি তাই
করতে পারতেন। পরে বোঝা গেল যে নিজেকে
ছাড়া আর কাউকে খুশি করার ব্যাপারে তাঁর খুব একটা মাথাব্যথা ছিলনা। সারা
পৃথিবীজুড়ে পাঠকরা যে তার নানা উপন্যাস ও বিবরণধর্মী বই পড়তে হুমড়ি খেয়ে পড়ত, তার কারণ, সমালোচক Clive James (ক্লাইভ
জেমস)-এর ভাষায় ‘তাঁর সুচারু, সুতীক্ষ্ণ শ্লেষ, তার
হৃদয়ের উদার ঊষ্ণতা নয়।’ গুণে
ক্ষণজন্মা এই লেখকের কারবার ছিল কঠোর, বাস্তব
সত্য নিয়ে, তাই
নাইপল যেমন মুগ্ধ করতেন, তেমনি
তীব্র বিরাগ উৎপাদন করতেন।
একগুচ্ছ বৈপরীত্য নিয়ে
তৈরি ছিল মানুষটা। সেদিক থেকে বিংশ শতাব্দীর নিয়ত
পরিবর্তনশীল, অভিবাসনের
জমানার মেজাজটাকেই ধারণ করেছিলেন যেন – তাই
এই শতাব্দীর প্রতিভূ লেখক হয়ে উঠেছিলেন। তার জীবনটা পুরোনো
পৃথিবী থেকে নতুন পৃথিবীতে আসা যাওয়ার কাহিনি। দুই
মহাদেশের ভাবনার জগতের মাঝে দৌত্য করেছেন – ভঙ্গিটি
শীতল, কখনো খিটখিটে মেজাজে। জন্ম
তার ক্যারিবিয়ান দ্বীপ ত্রিনিদাদে। পড়াশোনা বিলেতের
অক্সফোর্ডে। স্থায়ী বসবাস লণ্ডনে। সেখানে
কেতাদুরস্ত স্যুট পড়ার অভ্যেস হয়, সেই
সাথে সমাজের ঊঁচুতলায় আনাগোনা। ‘আমি
যখন নিজেকে দেশচ্যুত বা উদ্বাস্তু বলি, সেটা
উপমা নয় – কথাটা আক্ষরিক অর্থেই বলি,’ নাইপল বলেছিলেন।
