রবীন্দ্র প্রবন্ধ প্রসঙ্গ
রবিশঙ্কর মৈত্রী
রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ না পড়লে
তার সামাজিক মানবিক দায়বদ্ধতার একটি বিশেষ দিক পাঠকের আড়ালে থেকে যাওয়া
স্বাভাবিক। কবি রবীন্দ্রনাথ যে কীভাবে সরাসরি সমাজকর্মে নেমে পড়েছিলেন তা তার সব
ধরনের প্রবন্ধ না পড়লে জানা অসম্ভব।
প্রবন্ধ সম্পর্কে তাঁর, বিশেষ করে তার নিজের প্রবন্ধ সম্পর্কে তিনি বলেন :
“ছবিতে যেমন চৌকা
জিনিসের চারিটা পাশই একসঙ্গে দেখানো যায় না, তেমনি প্রবন্ধেও
একসঙ্গে একটা বিষয়ের একটি, বড়োজোর দুইটি দিক দেখানো চলে।” “নিজের নাসাগ্রভাগের সমসূত্র ধরে
ভূমিকা থেকে উপসংহার পর্যন্ত একেবারে সাজো লাইনে চললে নিতান্ত কলে তৈরি প্রবন্ধের সৃষ্টি হয়, মানুষের হাতের কাজের মতো হয়। সেরকম আঁটাআঁটি প্রবন্ধের বিশেষ আবশ্যক আছে এ কথা কেউ অস্বীকার
করিতে পারে না; কিন্তু সর্বত্র
তাহারই বড়ো বাহুল্য দেখা যায়। সেগুলো পড়লে মনে হয় যেন সত্য তার সমস্ত সুসংলগ্ন যুক্তি পরম্পরা নিয়ে একেবারে
সম্পূর্ণভাবে কোথা থেকে আবির্ভূত হল। মানুষের মনের মধ্যে সে যে মানুষ হয়েছে, সেখানে তার যে আরও অনেকগুলি সমবয়সী সহদোর ছিল, একটি বৃহৎ বিস্তৃত মানসপুরে যে তার একটি বিচিত্র বিহারভূমি ছিল, লেখকের প্রাণের মধ্যে থেকেই সে যে প্রাণ লাভ করেছে, তা তাকে দেখে মনে হয় না; এমন মনে হয় যেন কোন ইচ্ছাময় দেবতা যেমন বললেন, ‘অমুক প্রবন্ধ হউক’ অমনি অমুক প্রবন্ধ হল : ‘লেট দেয়ার বি লাইট অ্যান্ড দেয়ার ওয়াজ লাই।”
