আরও কমলকুমার
দয়াময়ীর কথায়
কমলকুমার মজুমদার প্রয়াত হয়েছেন ৩৯ বছরের মত হয়ে গেল। স্মৃতির প্রবল ভার এতদিন ধরে বহন করে তাঁর সহধর্মিণী দয়াময়ী মজুমদার এখন কেমন আছেন এই অশীতিপর বয়সে ৫০ ডি হাজরা রোড-এর ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে? তিনি সত্যিই কি দিন কাটাচ্ছেন একা একা? আর সেসব জানতেই আর একবার আমার তাঁর কাছে যাওয়া। এবং কিছু ট্র্যাডিশনাল প্রশ্ন তাঁর দিকে ছুঁড়ে দেওয়া। উত্তর দিতে গিয়ে তিনিও সেদিন তাঁর স্মৃতি-বিস্মৃতির বড়ো ঝুলিটি আর একবারে উলটে উপুড় করে দিলেন। হাসলেন কখনো শিশুর সারল্যে। কখনো হলেন চিন্তিত, কিছুটা বা অন্যমনস্ক। তাঁর একদা দামাল, চূড়ান্তভাবে সৃষ্টিশীল একগুঁয়ে স্বামীর বোহেমিয়ান জীবনযাপনের স্মৃতিতে কখনোবা গর্বিত হলেন, কখনো কিছুটা বিষণ্ণ, স্বামীর বিপুল না হলেও ধ্রুপদী সৃষ্টিসম্ভারের দিকে একবার ফিরে তাকিয়ে। এখন মনে হয়, কমলকুমার কখনো একা নন ওই কৃতিত্বের দাবিদার, বিপুল কৃচ্ছ্রসাধনে তাঁর পত্নীই দেখিয়েছেন তাঁকে সৃষ্টির পথে অনেকটা আলো। গড়পড়তা আর পাঁচজনের মতো সুখী সংসারের গৃহকোণকে দু-জনেই এড়িয়ে গিয়েছেন সযত্নে। আর একবার সেদিন অনুরূপ মনে হল ঘোর বর্ষার বিকেল এবং বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসার গোধূলিবেলায়। কখনো নিজে হাতে চা-মিষ্টি-জল নিয়ে আসছেন ধীর পায়ে, কখনোবা কথা বলতে বলতে উঠে যাচ্ছেন—‘যাই মাধবের ঘরে আলোটা জ্বেলে দিয়ে আসি’ এই বলে। হ্যাঁ পাশের ঘরেই রয়েছেন তাঁর সারাক্ষণের সঙ্গী তাঁরই মাধব। যাদবায় মাধবায় কেশবায় নমঃ।
আর এ ঘরে, অর্থাৎ যেখানে আমরা কথা বলছি, সেখানে রয়েছে ‘এসো মা আনন্দময়ী’—দেওয়াল জুড়ে, নিরন্তর হাসছে কমলকুমারের জল রং-এর ছবিটি। শ্রী অরবিন্দ বলিয়াছেন—‘আমাদের ভগবান’ হাসেন, ‘ঈশ্বর কোটির রঙ্গ কৌতুক’ গ্রন্থের ভূমিকায় তিনিই তো লিখে গেছেন।
অন্যদিকে কাঠের টুলে রাখা অন্তর্জলী যাত্রা, খেলার প্রতিভা, বা গোলাপ সুন্দরী বা গল্প-উপন্যাসের, প্রবন্ধের সংগ্রহ। আর দয়াময়ীর ধীরে ধীরে দেরিতে শুরু করেও ধর্ম বিষয়ে লেখা এবং প্রকাশিত গ্রন্থগুলিও রয়েছে এ ঘরে পাশাপাশি, গাছের মতো। সব মিলিয়ে এখানে পা ফেললেই শোনা যায় রূপ আর অরূপের টুংটাং যুগলবন্দী। ক্ষীণতর হয়ে আসা গত শতাব্দীর অস্তমিত আলো...। তাঁর লেখায় পাওয়া হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার চিহ্ন প্রতিপদে।
প্র.মা : আপনার শৈশব কোথায় এবং কীভাবে কেটেছে? বাবা, মা, স্কুল, বাল্য..শিক্ষা.. এসব বিষয়ে কিছু বলুন।

আর এ ঘরে, অর্থাৎ যেখানে আমরা কথা বলছি, সেখানে রয়েছে ‘এসো মা আনন্দময়ী’—দেওয়াল জুড়ে, নিরন্তর হাসছে কমলকুমারের জল রং-এর ছবিটি। শ্রী অরবিন্দ বলিয়াছেন—‘আমাদের ভগবান’ হাসেন, ‘ঈশ্বর কোটির রঙ্গ কৌতুক’ গ্রন্থের ভূমিকায় তিনিই তো লিখে গেছেন।
অন্যদিকে কাঠের টুলে রাখা অন্তর্জলী যাত্রা, খেলার প্রতিভা, বা গোলাপ সুন্দরী বা গল্প-উপন্যাসের, প্রবন্ধের সংগ্রহ। আর দয়াময়ীর ধীরে ধীরে দেরিতে শুরু করেও ধর্ম বিষয়ে লেখা এবং প্রকাশিত গ্রন্থগুলিও রয়েছে এ ঘরে পাশাপাশি, গাছের মতো। সব মিলিয়ে এখানে পা ফেললেই শোনা যায় রূপ আর অরূপের টুংটাং যুগলবন্দী। ক্ষীণতর হয়ে আসা গত শতাব্দীর অস্তমিত আলো...। তাঁর লেখায় পাওয়া হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার চিহ্ন প্রতিপদে।
প্র.মা : আপনার শৈশব কোথায় এবং কীভাবে কেটেছে? বাবা, মা, স্কুল, বাল্য..শিক্ষা.. এসব বিষয়ে কিছু বলুন।