নজরুলের জীবন যেখানে চাঁছাছোলা
পবিত্র সরকার
চিন্তক, গবেষক, জীবনীকার গোলাম মুরশিদ উভয় বাংলাতেই সুপরিচিত, সম্মানিত। তিরিশটি মূল্যবান গ্রন্থের প্রণেতা। মাইকেল মধুসূদনকে নিয়ে তাঁর ‘আশার ছলনে ভুলি’ গ্রন্থটি বাংলা জীবনীসাহিত্যে একটি মাইলফলক। তাঁর নতুন গ্রন্থ ‘বিদ্রোহী রণক্লান্ত, নজরুল-জীবনী’ বাংলা জীবনীসাহিত্যের মুকুটে আরও একটি উজ্জ্বল পালক। দীর্ঘ গবেষণার ফসল। এই গ্রন্থে নজরুলকে পাওয়া গেল তাঁর সত্যিকারের স্বরূপে। ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মদিবস উপলক্ষে গ্রন্থটি নিয়ে এবং নজরুল ইসলামকে নিয়ে আলোচনা করলেন শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার।
বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতির একনিষ্ঠ গবেষক গোলাম মুরশিদের সম্প্রতি প্রকাশিত নজরুল জীবনী (‘বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত’, প্রথমা, ঢাকা, ৮০০ টাকা) পড়তে পড়তে মনে হল, নজরুল আমাদের প্রিয় কবি, হয়তো রবীন্দ্রনাথের পরেই তাঁর কবিতা আমরা বেশি করে পড়ি, মুখস্থ করি, আবৃত্তি করি, এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতের পরে তাঁরই গান আমরা বেশি করে গাই (এ কথাও অনেকে জানি যে, রবীন্দ্রনাথের গানের চেয়ে তাঁর গানের সংখ্যা প্রায় হাজারখানেক বেশি), কিন্তু তাঁকে নিয়ে বাঙালির নানারকম সঙ্কট আছে, তিনি আমাদের কাছে অনেকগুলি প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে রেখে গেছেন। তাঁর উত্থান ও প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন, তাঁর জীবন নিয়ে প্রশ্ন, তাঁর আত্মপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, তাঁর সৃষ্টি-অভিমুখের বিবর্তন ও তাঁর সৃষ্টি-উৎস হঠাৎ রুদ্ধ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন। তিনি বাঁচলেন প্রায় সাতাত্তর বছর, কিন্তু শেষ পঁচিশ বছর বেঁচে রইলেন প্রায় উদ্ভিদের মতো, অসহায়, অন্যনির্ভর এক অস্তিত্ব। তিনি দেশকে আর নতুন কিছু দিতে পারলেন না ওই পঁচিশ বছর, যা দিয়েছেন সেই অমূল্য দানের জন্য কৃতজ্ঞতা হিসেবেই উপমহাদেশের বঙ্গভাষী অঞ্চল তাঁকে লালন ও পূজা করল, যেমন করে বিশেষ বিশেষ ধর্মগোষ্ঠীর মানুষ মূর্তিকে পূজা দেয়।
