জরুরী অবস্থা
শুভেন্দু বিকাশ চৌধুরী
১
‘ভোট দিবেন কুনখানে?’ প্রশ্ন করে মিছিলের সামনে চলতে থাকা আট-দশজন।
পেছন থেকে সমস্বরে জবাব আসে, ‘গাই বাছুরের মাজখানে’। আজ কয়েকদিন হল এইরকমই মিছিল চলছে বিভিন্ন দলের। সময়-অসময় নেই, প্রায় সারাদিনই গাঁয়ের রাস্তায়, কোন না কোন দলের মিছিল চলছে। সবাই ওই একই প্রশ্ন করে, কোথায় ভোট দেবেন? শুধু উত্তর আলাদা – গাই-বাছুর না লাঙল-কাঁধে-চাষা। মাটির বাড়ির দেওয়ালগুলো সব ভরে গেছে নির্বাচনী প্রতীক চিহ্নে আর লেখায়। যেমন - আসন্ন ষষ্ঠ লোকসভা নির্বাচনে আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রে ভারতীয় লোকদল প্রার্থী প্রফুল্ল চন্দ্র সেনকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করুন। দেশ বাঁচান, গণতন্ত্র বাঁচান। স্বৈরাচারী ইন্দিরা গান্ধীর কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। প্রশ্নও আছে কিছু - ইন্দিরা গান্ধীর মাইলো, কী দিয়ে খাইলো? নিচে ইন্দিরা গান্ধীর বিকৃত মুখচ্ছবি, নাকটা যেন অস্বাভাবিক লম্বা। মনে পড়ে, বছর কয়েক আগের কথা। খাবারের খুব কষ্ট! একফসলি জমি, ঘরে ঘরে চাল বাড়ন্ত। তখন রেশনে গম, মকাই, মটকলাই এসব দেওয়া হত। পাশের দেওয়ালে আবার ইন্দিরা গান্ধীর সুন্দর মুখ, সঙ্গে গাই-বাছুর। উমাশশীর ভারি ভাল লাগে এইসব দেখতে। ঘুঁটে দেওয়া বন্ধ করে হাঁ করে দেখতে থাকে মিছিলের চলে যাওয়া। কেমন সবাই দলবেঁধে লাইন দিয়ে চলেছে – একপাড়া থেকে অন্য পাড়া, এক গাঁ থেকে অন্য গাঁয়ে। মনে হয় সেও বুঝি চলে যায় ওদের সঙ্গে। যেমন অমল চলে যেতে চেয়েছিল দইওলার সঙ্গে!
শুভেন্দু বিকাশ চৌধুরী

‘ভোট দিবেন কুনখানে?’ প্রশ্ন করে মিছিলের সামনে চলতে থাকা আট-দশজন।
পেছন থেকে সমস্বরে জবাব আসে, ‘গাই বাছুরের মাজখানে’। আজ কয়েকদিন হল এইরকমই মিছিল চলছে বিভিন্ন দলের। সময়-অসময় নেই, প্রায় সারাদিনই গাঁয়ের রাস্তায়, কোন না কোন দলের মিছিল চলছে। সবাই ওই একই প্রশ্ন করে, কোথায় ভোট দেবেন? শুধু উত্তর আলাদা – গাই-বাছুর না লাঙল-কাঁধে-চাষা। মাটির বাড়ির দেওয়ালগুলো সব ভরে গেছে নির্বাচনী প্রতীক চিহ্নে আর লেখায়। যেমন - আসন্ন ষষ্ঠ লোকসভা নির্বাচনে আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রে ভারতীয় লোকদল প্রার্থী প্রফুল্ল চন্দ্র সেনকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করুন। দেশ বাঁচান, গণতন্ত্র বাঁচান। স্বৈরাচারী ইন্দিরা গান্ধীর কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। প্রশ্নও আছে কিছু - ইন্দিরা গান্ধীর মাইলো, কী দিয়ে খাইলো? নিচে ইন্দিরা গান্ধীর বিকৃত মুখচ্ছবি, নাকটা যেন অস্বাভাবিক লম্বা। মনে পড়ে, বছর কয়েক আগের কথা। খাবারের খুব কষ্ট! একফসলি জমি, ঘরে ঘরে চাল বাড়ন্ত। তখন রেশনে গম, মকাই, মটকলাই এসব দেওয়া হত। পাশের দেওয়ালে আবার ইন্দিরা গান্ধীর সুন্দর মুখ, সঙ্গে গাই-বাছুর। উমাশশীর ভারি ভাল লাগে এইসব দেখতে। ঘুঁটে দেওয়া বন্ধ করে হাঁ করে দেখতে থাকে মিছিলের চলে যাওয়া। কেমন সবাই দলবেঁধে লাইন দিয়ে চলেছে – একপাড়া থেকে অন্য পাড়া, এক গাঁ থেকে অন্য গাঁয়ে। মনে হয় সেও বুঝি চলে যায় ওদের সঙ্গে। যেমন অমল চলে যেতে চেয়েছিল দইওলার সঙ্গে!